শিফা আল কুরআন লোগো
শিফা আল কুরআন
ব্লগে ফিরে যান
বদনজর১৫ আগস্ট, ২০২৬

বদনজর কী?

লেখক
শিফা আল কুরআন
পড়ার সময়
৫ মিনিট
শিফা আল কুরআন
বদনজর বা নজরে বদ একটি সত্য বিষয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বদনজর সত্য।' কারো প্রশংসনীয় বা সুন্দর কিছু দেখে আল্লাহর নাম না নিলে, সেখান থেকে ক্ষতিকর প্রভাব তৈরি হতে পারে, যা বদনজর নামে পরিচিত।

বদনজরের পরিচিতি

বদনজর আরবি শব্দ ‘আল-আইন’ থেকে এসেছে। এটি ঘটে যখন একজন মানুষ অন্য কারও রূপ, গুণ, সম্পদ বা সন্তানের প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকায়, কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা (যেমন: মাশাআল্লাহ, বারাকাল্লাহ) করে না। এর ফলে ওই ব্যক্তির প্রতি এক ধরনের ক্ষতিকর অদৃশ্য প্রভাব পড়ে। বদনজর শুধু শত্রুর নয়, বরং অতি ভালোবাসার মানুষের, এমনকি নিজের ওপরও লাগতে পারে।

বদনজর যে সত্য তার প্রমাণ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বদনজর সত্য। যদি তাকদিরকে ডিঙিয়ে কোনো কিছু আগে যেত, তবে বদনজর আগে যেত।' (সহিহ মুসলিম)। অন্য এক হাদিসে তিনি বলেছেন, 'বদনজর মানুষকে কবরে এবং উটকে হাঁড়িতে পৌঁছে দেয়।' (আবু দাউদ)। এর মানে হলো, বদনজরের প্রভাব এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে তা মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

কীভাবে বদনজর লাগে?

সাধারণত অতিরিক্ত মুগ্ধতা, হিংসা বা লোভ থেকে বদনজর লাগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বা সন্তানের অতিরিক্ত ছবি শেয়ার করা, নিজের অর্জনগুলো নিয়ে অহংকার করা বা প্রদর্শনীর কারণে বদনজর লাগার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এমনকি অন্ধ বা জিনের বদনজরও লাগতে পারে।

ভয় না পেয়ে সচেতন হওয়া

বদনজর সত্য হলেও এটি নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। মুমিন হিসেবে আমাদের কাজ হলো আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো হিফাজতের দোয়াগুলো নিয়মিত পড়া। সকাল-সন্ধ্যার আমলগুলো নিয়মিত করলে আল্লাহ তাআলা বদনজর থেকে হিফাজত করেন।